
স্টাফ রিপোর্টার, মধুপুর,টাঙ্গাইল।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অসহায় নারী ও দুই শিশুকে খুঁজে পেল জাতীয় ছাত্র শক্তি।
টাঙ্গালের মধুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অসহায় এক নারী ও তার দুই শিশুর সন্ধান পেয়েছেন মধুপুর উপজেলা জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতৃবৃন্দ। গত ১২ আগস্ট ওই নারীর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তাদের সন্ধান পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অসুস্থ ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার, পোশাকসহ সার্বিক দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুই শিশুর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টিও নজরে রাখা হচ্ছে। এ মানবিক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে অসুস্থ ওই নারীর চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমান, আরএমও সজীব কুমার, ডা. নাজমুল ইসলাম, মধুপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মধুপুর ইউনিটের সভাপতি আব্দুল হামিদ, জাতীয় ছাত্র শক্তির মো. মেহেদী হাসান শিশির, মো. কামরান হাসান বর্ষণ, মো. শাকিল সরকার, মোহাম্মদ সিয়াম আহমেদসহ নেতৃবৃন্দ ।
এ সময় মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, আগামীকাল মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় ওই নারী ও তার দুই শিশুকে নিরাপদে তাদের নিজ বাসস্থানে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
অসহায় নারী ও তার দুই শিশুর দুর্দশার কথা জানতে পেরে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করায় জাতীয় ছাত্র শক্তির এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অসহায় মানুষের দুর্দশার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এদিকে মানবিক এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করায় উপজেলা প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতৃবৃন্দ।
মানুষের দুর্দিনে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে—সমাজে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এমন চর্চা আরও বিস্তৃত হোক, এটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

বিশেষ প্রতিনিধি (টাংগাইল) 










