ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
সারাদেশে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা আজই যোগাযোগ করুন ০১৫৫২৬৬৪১৪৫

হেমনগরের জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর ইতিহাস

এস. এম. সাইমুজ্জামান তুহিন, ধনবাড়ি, টাঙ্গাইল।

===============——————————
হেমচন্দ্র চৌধুরীর দাদা পদ্মলোচন রায় তিনি মধুপুর উপজেলার আমবাড়ীয়ার ভূস্বামী ছিলেন। বংশাই নদীর তীরে তিনি দ্বিতল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। পদ্মলোচন রায় পুখুরিয়া পরগনার জমিদার ভৈরব চন্দ্রের নিকট থেকে প্রথম দুই আনার জমিদারী কিনেন।
হেমচন্দ্রে পিতা কালীচন্দ্র রায় পুখুরিয়া পরগনার বাকী চার আনা জমিদারী কিনে নেন।
হেমচন্দ্র রায় জয়েনশাহী পরগনার পাঁচ আনা আড়াই গন্ডা পুরো তালুক কিনে নিয়ে তার প্রভাব বৃদ্ধি করেন। পরে তিনি উপাধী নেন চৌধুরী।
হেমচন্দ্র চৌধুরীর জন্ম আমবাড়িয়ায়। তিনি ধর্মে কর্মে নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে সুবর্নখালী বন্দর নগরে নুতন দ্বিতল রাজবাড়ি নির্মাণ করেন। আবার কেউ বলেন সুবর্ণখালিতে নীলকরদের পাকা কুঠির কিনে নিয়ে সেখানে নুতন ভবন নির্মাণ করে জমিদারী পরিচালনা করেন।তিনি সুবর্ণখালিতে বিমাতার শশী মুখীর নামে একটি ইংরেজি স্কুল স্থাপন করেন। সুবর্ন খালি নদীবন্দর যমুনা নদীর ভাঙ্গনে বিলুপ্ত হয়। হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে শিমলাপাড়া মৌজায় দ্বিতল রাজপ্রসাদ নির্মাণ করেন। নাম দেন পরীর দালান। দ্বিতল প্রাসাদের উপরে উড়ন্ত পরীর ভাস্কার্য স্থাপিত ছিল।
জমিদারের নামে স্থানের নামকরণ হয় হেমনগর।তিনি বাজবাড়ির দক্ষিণে বিশাল দীঘি খনন করেন,রাজবাড়ির ভিতরে ও পুর্ব পাশে হাইস্কুলে সামনে বড় পুকুর খনন করেন।প্রজা সাধারণের জল কষ্ট দুর করার জন্য অনেক কুপ (ইন্দিরা) খনন করেন এবং ৪০ টির অধিক দীঘি, পুকুর খনন করেন।
জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর চার পুত্র ও চার কন্যার জনক ছিলেন। পুত্রগণের নাম।১।হেরেম্বর চৌধুরী। ২।গঙ্গেশ চৌধুরী। ৩।প্রফুল্ল চৌধুরী। ৪।যোগেশ চৌধুরী কন্যাগণের নাম:  ১।সুরেন্দ্র বালা দেবী স্বামী সতীশ চন্দ্র মুখার্জী। ২।কিরন বালা দেবী স্বামী বাদল মুখার্জী। ৩।সুমতি বালা দেবী স্বামী মুরলীধর গাঙ্গুলী ৪।সুনীতি বালা দেবী স্বামী অজ্ঞাত। জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর তিন বোন ছিল যথা:
১।স্বর্ণময়ী দেবী স্বামী নীলকান্ত গাঙ্গুলী।
২।ক্ষিরোদা সুন্দরী দেবী স্বামী গোবিন্দ চন্দ্র গাঙ্গুলী।
৩।বরোদা সুন্দরী দেবী স্বামী রজনী কান্ত গাঙ্গুলী।
হেমচন্দ্র চোধুরী ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কাশীতে মারা যান। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের দাঙ্গার পর দেশ ভাগের আগেই জমিদারের উত্তর সুরিগণ পশ্চিম বঙ্গে পাড়ি জমান। শুধু শ্যামা কান্ত গাঙ্গুলী ও কমল গাঙ্গুলী দেশে থেকে যান।পরে ১৯৬৫ পাক ভারত যুদ্ধের সময় গোপালপুরে দাঙ্গার উত্তেজনা দেখা দিলে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।
হেমচন্দ্র চৌধুরী হেমনগর গোপালপুর রাস্তা নির্মাণ করেন। তিনি বিমাতার নামে শশী মুখী ইংলিশ হাই স্কুল সুবর্ণখালি থেকে হেমনগরে স্থানান্তর করেন।
* আনন্দ মোহন কলেজে সেরা ১০ জন দাতার মধ্য তাঁর ক্রমিক ৪ এ তার নাম ছিল।
* গোপালপুর সূতী ভি এম স্কুলে,পিংনা হাইস্কুলে জমি ও অর্থ দান করেন।
* বরিশালে মুক বধির স্কুলে অর্থ দান করেন।
* ময়মনসিহে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নির্মাণে অর্থ দেন।
* পিংনা হাসপাতালে অর্থ দেন।
* জন সাধারণের চিকিৎসার জন্য হেমনগর নিজ মায়ের নামে হরদুর্গা দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন।
* টাঙ্গাইলে উকিল বার নির্মানে সহযোগীতা করেন।
* চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডু চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠার সিড়ি নির্মাণ করেন।
* হেমনগর থেকে তিনি একটি ” হিতৈষী” প্রকাশ করেন।
* হেমচন্দ্র চৌধুরীর কয়েকটি।কবিতার বই কলকাতাথেকে প্রকাশ হয়।যার একটির নাম “গৌড়ের গীত মালা “।

 

তথ্যসুত্র: মধুপুর নিউজ ২৪. কম।

 

Facebook Comments Box
ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

হেমনগরের জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর ইতিহাস

আপডেট সময় ০৭:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

এস. এম. সাইমুজ্জামান তুহিন, ধনবাড়ি, টাঙ্গাইল।

===============——————————
হেমচন্দ্র চৌধুরীর দাদা পদ্মলোচন রায় তিনি মধুপুর উপজেলার আমবাড়ীয়ার ভূস্বামী ছিলেন। বংশাই নদীর তীরে তিনি দ্বিতল জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। পদ্মলোচন রায় পুখুরিয়া পরগনার জমিদার ভৈরব চন্দ্রের নিকট থেকে প্রথম দুই আনার জমিদারী কিনেন।
হেমচন্দ্রে পিতা কালীচন্দ্র রায় পুখুরিয়া পরগনার বাকী চার আনা জমিদারী কিনে নেন।
হেমচন্দ্র রায় জয়েনশাহী পরগনার পাঁচ আনা আড়াই গন্ডা পুরো তালুক কিনে নিয়ে তার প্রভাব বৃদ্ধি করেন। পরে তিনি উপাধী নেন চৌধুরী।
হেমচন্দ্র চৌধুরীর জন্ম আমবাড়িয়ায়। তিনি ধর্মে কর্মে নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে সুবর্নখালী বন্দর নগরে নুতন দ্বিতল রাজবাড়ি নির্মাণ করেন। আবার কেউ বলেন সুবর্ণখালিতে নীলকরদের পাকা কুঠির কিনে নিয়ে সেখানে নুতন ভবন নির্মাণ করে জমিদারী পরিচালনা করেন।তিনি সুবর্ণখালিতে বিমাতার শশী মুখীর নামে একটি ইংরেজি স্কুল স্থাপন করেন। সুবর্ন খালি নদীবন্দর যমুনা নদীর ভাঙ্গনে বিলুপ্ত হয়। হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে শিমলাপাড়া মৌজায় দ্বিতল রাজপ্রসাদ নির্মাণ করেন। নাম দেন পরীর দালান। দ্বিতল প্রাসাদের উপরে উড়ন্ত পরীর ভাস্কার্য স্থাপিত ছিল।
জমিদারের নামে স্থানের নামকরণ হয় হেমনগর।তিনি বাজবাড়ির দক্ষিণে বিশাল দীঘি খনন করেন,রাজবাড়ির ভিতরে ও পুর্ব পাশে হাইস্কুলে সামনে বড় পুকুর খনন করেন।প্রজা সাধারণের জল কষ্ট দুর করার জন্য অনেক কুপ (ইন্দিরা) খনন করেন এবং ৪০ টির অধিক দীঘি, পুকুর খনন করেন।
জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর চার পুত্র ও চার কন্যার জনক ছিলেন। পুত্রগণের নাম।১।হেরেম্বর চৌধুরী। ২।গঙ্গেশ চৌধুরী। ৩।প্রফুল্ল চৌধুরী। ৪।যোগেশ চৌধুরী কন্যাগণের নাম:  ১।সুরেন্দ্র বালা দেবী স্বামী সতীশ চন্দ্র মুখার্জী। ২।কিরন বালা দেবী স্বামী বাদল মুখার্জী। ৩।সুমতি বালা দেবী স্বামী মুরলীধর গাঙ্গুলী ৪।সুনীতি বালা দেবী স্বামী অজ্ঞাত। জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর তিন বোন ছিল যথা:
১।স্বর্ণময়ী দেবী স্বামী নীলকান্ত গাঙ্গুলী।
২।ক্ষিরোদা সুন্দরী দেবী স্বামী গোবিন্দ চন্দ্র গাঙ্গুলী।
৩।বরোদা সুন্দরী দেবী স্বামী রজনী কান্ত গাঙ্গুলী।
হেমচন্দ্র চোধুরী ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কাশীতে মারা যান। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের দাঙ্গার পর দেশ ভাগের আগেই জমিদারের উত্তর সুরিগণ পশ্চিম বঙ্গে পাড়ি জমান। শুধু শ্যামা কান্ত গাঙ্গুলী ও কমল গাঙ্গুলী দেশে থেকে যান।পরে ১৯৬৫ পাক ভারত যুদ্ধের সময় গোপালপুরে দাঙ্গার উত্তেজনা দেখা দিলে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।
হেমচন্দ্র চৌধুরী হেমনগর গোপালপুর রাস্তা নির্মাণ করেন। তিনি বিমাতার নামে শশী মুখী ইংলিশ হাই স্কুল সুবর্ণখালি থেকে হেমনগরে স্থানান্তর করেন।
* আনন্দ মোহন কলেজে সেরা ১০ জন দাতার মধ্য তাঁর ক্রমিক ৪ এ তার নাম ছিল।
* গোপালপুর সূতী ভি এম স্কুলে,পিংনা হাইস্কুলে জমি ও অর্থ দান করেন।
* বরিশালে মুক বধির স্কুলে অর্থ দান করেন।
* ময়মনসিহে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নির্মাণে অর্থ দেন।
* পিংনা হাসপাতালে অর্থ দেন।
* জন সাধারণের চিকিৎসার জন্য হেমনগর নিজ মায়ের নামে হরদুর্গা দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন।
* টাঙ্গাইলে উকিল বার নির্মানে সহযোগীতা করেন।
* চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডু চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠার সিড়ি নির্মাণ করেন।
* হেমনগর থেকে তিনি একটি ” হিতৈষী” প্রকাশ করেন।
* হেমচন্দ্র চৌধুরীর কয়েকটি।কবিতার বই কলকাতাথেকে প্রকাশ হয়।যার একটির নাম “গৌড়ের গীত মালা “।

 

তথ্যসুত্র: মধুপুর নিউজ ২৪. কম।

 

Facebook Comments Box